Last Updated:
Durga Puja 2026: ১৭৪২ সালে মারাঠা সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিতের দাঁইহাটের কাছারিবাড়িতে দুর্গাপুজো আয়োজনের কথা ইতিহাস প্রসিদ্ধ। নবমীর রাতে নবাব আলিবর্দি খাঁর অতর্কিত আক্রমণে সেই পুজো অসমাপ্ত রেখেই পলায়ন করেছিলেন বর্গি সেনাপতি। সেই স্মৃতি আজও ধরে রেখেছেন স্থানীয়রা।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: “ছেলে ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো, বর্গি এল দেশে” বাংলার লোকমুখে প্রচলিত এই ছড়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মারাঠা বর্গি আক্রমণের ইতিহাস। পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাটেও সেই ইতিহাসের স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে প্রাচীন কাছারিবাড়ির ধ্বংসাবশেষ। স্থানীয়দের দাবি, এই দাঁইহাটেই একসময় দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলেন বর্গি সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিত।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪২ সালে প্রায় ৪০ হাজার মারাঠা সৈন্য নিয়ে বাংলায় আক্রমণ করেন ভাস্কর পণ্ডিত। সেই সময় বাংলার নবাব আলিবর্দি খাঁ বর্ধমানে ছিলেন। নবাবের কাছে দেড় লক্ষ টাকা দাবি করে বর্গিরা। সেই দাবি না মানায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে নবাবের বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে বর্গিরা কাটোয়ার দিকে সরে আসে। দাঁইহাটের বর্তমান কাছারিবাড়ি দখল করে সেখানে ঘাঁটি গাড়ে তারা। আশপাশের এলাকায় শুরু হয় লুটপাট।
কথিত আছে, সেই সময় শরৎকাল এসে পড়ায় ভাস্কর পণ্ডিত দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন। আশপাশের গ্রাম থেকে নজরানাও আসতে শুরু করে। এই সুযোগে নবাব আলিবর্দি খাঁ বর্গিদের উপর অতর্কিতে হামলার পরিকল্পনা করেন। ১৭৪২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, মহানবমীর সন্ধ্যারতির পর ভাগীরথী পেরিয়ে নবাবের সেনা পুজোস্থলে আক্রমণ চালায়। ছত্রভঙ্গ হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় বর্গিরা। অসমাপ্ত পুজো রেখেই মহারাষ্ট্রের পথে রওনা দেন ভাস্কর পণ্ডিত।
কথিত আছে, দুর্গামূর্তি শত্রুপক্ষের হাতে পড়ার আশঙ্কায় তিনি সেটি গভীর জলে বিসর্জন দিয়ে যান। দাঁইহাটের পুজো কমিটির সভাপতি শুভাশিস প্রামাণিক জানান, নবমীর রাতে নবাবি বাহিনীর আক্রমণের জেরেই ভাস্কর পণ্ডিতের পুজো অসমাপ্ত থেকে যায়। সেই ইতিহাসের স্মৃতি ধরে রাখতেই আজও স্থানীয়দের মধ্যে এই পুজোকে ঘিরে আগ্রহ রয়েছে। প্রাচীন কাছারিবাড়ির অবশিষ্ট অংশও অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে।

