Last Updated:
ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় নিজের শহর বর্ধমানেই ছিলেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র৷
গাড়ি, পথচলতি পুরুষ মহিলার ভিড় কাটিয়ে কোনও রকমে এগিয়ে চলেছে একটি স্কুটি। চালাচ্ছেন এক মহিলা। স্কুটির পিছনে বসে আছেন রাজ্যের মন্ত্রী। চোখে মুখে সময়ে পৌঁছনোর উৎকণ্ঠা। তিনি কে জানেন? তিনি রাজ্যের শিল্প ও পরিকল্পনা দফতরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। কেন তিনি সামনে পাইলট কার থাকা চারচাকা গাড়ি ছেড়ে চড়ে বসলেন দু চাকা গাড়িতে?
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে স্কুটিতে চরে বর্ধমান শহরের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে ঘুরতে দেখলেন বাসিন্দারা। সেই তৃতীয়া থেকে একের পর এক পুজোর উদ্বোধন করে চলেছেন তিনি। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দেখা গেল এখনও অনেক উদ্বোধন বাকি। শহরের জি টি রোড তখন মণ্ডপমুখী উৎসাহী দর্শকদের দখলে। তার উপরে একাধিক চার চাকার ভিড়।
এই রাস্তায় চার চাকা গাড়িতে যাওয়া মানে অনেক বেশি সময় নষ্ট হওয়া। তাই পাইলট কার, চারচাকা গাড়ি, নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে মন্ত্রী চেপে বসলেন স্কুটিতে। সেই বাহনের উপরে ভরসা রেখেই পৌঁছে গেলেন একের পর এক মণ্ডপে। হাসি মুখে ফিতে কেটে উদ্বোধন করলেন তিনি। বক্তব্যে উঠে এলো নারীশক্তির জয়গান। সবাইকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানালেন।
মন্ত্রীকে স্কুটিতে দেখে অবাক অনেকেই। অনেকে আবার এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না। তাঁরা বলছেন, ‘আইনজীবী হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। এখন তিনি বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক বা শিল্প প্রতিমন্ত্রী হলেও আসলে তিনি আমাদেরই ঘরের মানুষ। আমরা চাই তিনি শহরের মেয়ে হিসেবে এভাবেই সব প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।’
এবারের পুজোর উদ্বোধনে সেভাবে তারকাদের ভিড় দেখা যায়নি। বদলে উদ্যোক্তাদের প্রায় সকলেই উদ্বোধক হিসেবে শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকেই চেয়েছেন। শুধু শহর নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত, এমন কি রাজ্যের অনেক পুজো কমিটিই তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

