Headlines

Durga Puja 2026: মণ্ডপের জাঁকজমক কমিয়ে হাসপাতালের রোগীদের ফল বণ্টন! পুজো অনুদানের টাকা বাঁচিয়ে মঙ্গলকোটের ক্লাবের অনন্য নজির | Human Interest Story Beyond Pandal Pomp Purba Bardhaman Kunda Tarun Sangha Distributes Fruits to Hospital Patients Using Puja Grant Money | পূর্ব বর্ধমান


Last Updated:

Durga Puja 2026: উৎসবের আনন্দে বাদ যাননি হাসপাতালের শয্যাশায়ী রোগীরাও! দুর্গাপুজোর ১ লক্ষ টাকার সরকারি অনুদান থেকে খরচ বাঁচিয়ে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতালের অসুস্থ মানুষের হাতে ফল তুলে দিয়ে মানবিকতার নজির গড়ল কুন্দা তরুণ সংঘ।

+

পূর্ব

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতালে দুর্গাপুজোর অনুদানের টাকা বাঁচিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের হাতে ফল তুলে দিচ্ছেন কুন্দা তরুণ সংঘের সদস্যরা

মঙ্গলকোট, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: উৎসব মানে আনন্দ, উৎসব মানে নতুন পোশাক, আলোর রোশনাই আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত। কিন্তু এই আনন্দের দিনেও এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁদের ঠিকানা হাসপাতালের চার দেওয়াল। বাইরে যখন ঢাকের আওয়াজে পুজোর আগমনী বাজে, তখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অনেককেই কাটাতে হয় উৎসবের দিনগুলি। সেই মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কুন্দা তরুণ সংঘ। দুর্গাপুজোর খরচ বাঁচিয়ে সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতালের রোগীদের হাতে ফল তুলে দেন ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের এই উদ্যোগ যেন মনে করিয়ে দিল, পুজোর প্রকৃত আনন্দ শুধু নিজেরা ভাল থাকার মধ্যে নয়, বরং অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে।

কুন্দা তরুণ সংঘের সভাপতি সৌভিক সাঁতরা বলেন, “অসুস্থ মানুষের কথা ভেবেই এই উদ্যোগ। পুজোর জন্য যে ১ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছি সেখান থেকেই কিছু টাকা বাঁচিয়ে এই ফল কেনা হয়েছে।” প্রতি বছরই নিয়ম করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে কুন্দা তরুণ সংঘ। পুজোর দিনগুলিতে আনন্দে মেতে ওঠেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষগুলোর কথা ভুলে যাননি ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের ভাবনায়, যে উৎসবে গোটা সমাজ আনন্দে মেতে ওঠে, সেই উৎসবে অসুস্থ মানুষগুলিও যেন একটু ভালোবাসার স্পর্শ পান। তাই পুজোর অনুদানের টাকা থেকে কিছুটা খরচ বাঁচিয়ে রোগীদের জন্য ফল বিতরণের উদ্যোগ নেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: ফিল্মি কায়দায় এটিএম লুটের ছক! ফের শিরোনামে ফলতা, পুলিশি তৎপরতায় ভেস্তে গেল বড় পরিকল্পনা

মঙ্গলকোট বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডল সভানেত্রী মন্দিরা চট্টরাজ বলেন, “এই উদ্যোগ সত্যিই প্রসংশনীয়।” পুজোর জাঁকজমক হয়তো কিছুটা কমানো যায়, কিন্তু মানুষের প্রতি ভালবাসা আর দায়িত্ববোধের সৌন্দর্য কখনও কমে না। কুন্দা তরুণ সংঘের এই উদ্যোগ সেই কথাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল। এ প্রসঙ্গে সিঙ্গত গ্রামীণ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবিদ হোসেন মল্লিকও উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পুজোর খরচ বাঁচিয়ে রোগীদের ফল বিতরণের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এমন কাজ আরও এগিয়ে যাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: ৪০ বছরের হুকিংয়ের ইতি! শুভেন্দু সরকারের কড়া বার্তায় মিটার বসানোর হিড়িক ‘এই’ গ্রামে, কোথায় বলুন তো?

আসলে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষগুলোর কাছে হয়তো এই কয়েকটি ফলের মূল্য শুধু খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার সঙ্গে মিশে রয়েছে কিছু মানুষের নিঃস্বার্থ ভালবাসা, যত্ন আর পাশে থাকার আশ্বাস। কারণ, উৎসবের আসল আলো শুধু মণ্ডপের আলোকসজ্জায় জ্বলে না, সেই আলো জ্বলে তখনই, যখন কারও কঠিন সময়ে অন্য কেউ তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায়। কুন্দা তরুণ সংঘের এই মানবিক উদ্যোগ তাই শুধু পুজোর আয়োজন নয়, এ যেন মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসার এক টুকরো উৎসব।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *