Last Updated:
দুর্গার স্বপ্নাদেশে কলকাতা ছেড়ে বর্ধমানে এসেছিলেন বিহারীলাল প্রামাণিক। খাজা আনোয়ার বেড়ের প্রামাণিক বাড়িতে আজও পালিত হয় প্রায় ২৭০ বছরের দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য।
পূর্ব বর্ধমান: কলকাতায় তখন রমরমা ব্যবসা। নামডাকও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু এক রাতে মা দুর্গার স্বপ্নাদেশ পেয়ে বদলে গেল জীবন! কলকাতা ছেড়ে চলে এলেন বর্ধমানে। তৎকালীন নবাবের কাছ থেকে জমি নিয়ে গড়ে তুললেন মন্দির। শুরু হল দুর্গাপুজো। প্রায় ২৭০ বছর ধরে সেই পুজো আজও হয়ে আসছে নিষ্ঠা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে। নবমীতে নিয়ম মেনে হয় কুমারী পুজো। জানেন কি, বর্ধমানের কোথায় রয়েছে এই প্রাচীন প্রামাণিক বাড়ি?
বর্ধমান শহরের খাজা আনোয়ার বেড়ের প্রামাণিক বাড়ির দুর্গাপুজো রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পুজো। প্রায় ২৭০ বছর ধরে নিজস্ব রীতিনীতি ও বিশ্বাসকে সঙ্গী করে এই পুজো হয়ে আসছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, একসময় কলকাতায় ব্যবসায়ী হিসেবে যথেষ্ট নামডাক ছিল বিহারীলাল প্রামাণিকের। এক রাতে স্বপ্নাদেশ পান মা দুর্গার। এরপরই কলকাতা ছেড়ে বর্ধমানে চলে আসেন তিনি। তৎকালীন নবাবের কাছ থেকে জমি নিয়ে শুরু করেন দুর্গাপুজো। সেই থেকে প্রামাণিক বাড়িতে চলে আসছে দেবী আরাধনা।
প্রামাণিক বাড়ির পুজোয় আজও মেনে চলা হয় পারিবারিক রীতিনীতি। ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন ভোরে হয় মঙ্গলারতি। সেই সময় দেবীকে লুচি, মিষ্টি ও ফল ভোগ দেওয়া হয়। আতপ চালের নৈবেদ্য দিয়ে দেবীর বিছানা তৈরি করা হয়। নবমীতে আয়োজন করা হয় কুমারী পুজোর।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১০৮টি প্রদীপ। একসময় পুজোয় এক মণ চালের নৈবেদ্য দেওয়া হত। এখন সেই পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। তবে পুজোর আচার-অনুষ্ঠানে বদল আসেনি। প্রতিমার মূল কাঠামো লোহার তৈরি। সেই একই কাঠামোতেই বছরের পর বছর পুজো হয়ে আসছে।
একসময় পুজোর দিনগুলিতে প্রামাণিক বাড়িতে আয়োজন করা হত যাত্রাপালা ও জলসার। সময়ের সঙ্গে সেই আয়োজন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে নিষ্ঠা ও নিয়ম মেনেই আজও পুজো করেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা কাজের সূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু দুর্গাপুজো এলেই পুরনো বাড়িতে ফিরে আসেন সকলে। একসঙ্গে দেবীর পুজো, অঞ্জলি, খাওয়াদাওয়া আর আড্ডায় মেতে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এভাবেই বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বেড়ের প্রামাণিক বাড়িতে টিকে রয়েছে প্রায় ২৭০ বছরের দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য।

